৩০ জানুয়ারী ২০২৩, সোমবার, ০১:৩১:৪৮ অপরাহ্ন
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিন : মীর্জা ফখরুল
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-৬-২০২২
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিন : মীর্জা ফখরুল

তত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশের আর কোন নির্বাচন হবে না বলে আবারো মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী। তিনি বলেন আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন হরতাল করেছে। সেই তত্ববধায়ক সরকারের অধিনে পাঁচটি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছে। এখন সেই তত্ববাধায়ক সরকারকে তারা ভয় পায়। শনিবার রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে এ সব কথা বলেন মীর্জ ফখরুল।


নির্ধারিত সময়ের সাড়ে চার ঘন্টা আগে স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে শুরু হয় সমাবেশে। দুপুর দেড়টার দিকে মঞ্চে আসেন কেন্দ্রীয় নেতারা। নেতারা মঞ্চে আসলে কড়তালিতে মুখর হয়ে উঠে সমাবেশস্থল। এর আগে সকাল থেকে নেতাকর্মীরা মাঠে জোড় হয়। দুপুরের মধ্যে অর্ধেকের বেশী পুর্ন হয়ে যায় মাঠ। বিকেল চারটার দিকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মীর্জা ফখরুল।


চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ফরিদপুর, সিলেট, কুমিল্লার পর আজ রাজশাহীতে গণসমাবেশ করছে বিএনপি। এটি বিএনপির নবম বিভাগীয় গণসমাবেশ।


তিনি বলেন, এবারের আন্দোলনে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সেই নিরপেক্ষ সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। সেই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে সমস্ত দল অংশগ্রহণ করবে এবং সেই নির্বাচনের মাধ্যমে একটা পার্লামেন্ট গঠন হবে।


ওই নির্বাচনে জয়ী দলের সমন্বয়ে তারেক রহমানের জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণাও দেন মির্জা ফখরুল।


তিনি বলেন, তারেক রহমানের সেই জাতীয় সরকার নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা ও নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। দেশে যতকিছু অসামঞ্জস্য আছে, সমস্যা আছে সেগুলো নির্ধারণ করে নতুন করে অর্থনীতিকে সজীব করে তুলবে, রাজনৈতিক কাঠামোকে সজীব করে তুলবে।


আগামি ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ এখন ভয় পায়। তাদের নিজের প্রতি আস্থা নাই, জনগণের প্রতিও আস্থা নাই। এজন্য তারা নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে দিতে চায় না। এ সমাবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।


তিনি বলেন, তারা বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ দেখে ভয় পেয়েছে। এখন ১০ তারিখের সমাবেশের কথা শুনে আওয়ামী লীগ ভয় পেয়েছে। আমরা তাদের বলতে চাই, বিএনপি বহু সমাবেশ নয়াপল্টনে করেছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সমাবেশ করেছে। তখন তো কোনো সমস্যা হয়নি।


মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার জঙ্গি আক্রমণের ধুয়া তুলেছে। যখন সরকারের দরকার হয়- এবার বিএনপিকে ধরতে হবে, তখন তারা জঙ্গি তৈরি করে। নিজেরা বাস পুড়িয়ে, ককটেল মেরে বলে বিএনপি অগ্নিসন্ত্রাস করছে।


সরকার ভয়ে আছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চোরের মন পুলিশ পুলিশ এদের অবস্থা এ রকম। কিছু হলেই দুঃস্বপ্ন দেখে। বিএনপি আইলো, বিএনপি আইলো, তারেক রহমান আইলো, তারেক রহমান আইলো।’


তিনি বলেন, বিএনপির যে আন্দোলন, তা খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য নয়, তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য নয়, বা তাদের দলের নেতাদের মন্ত্রী হওয়ার জন্য নয়, এ আন্দোলন ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলন।


নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাদের রুখে দিতে না পারলে সব অর্জন শেষ হয়ে যাবে। দুর্বার গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে হবে।


মীর্জা ফখরুল বলেন, আর কতকাল মানুষ কষ্ট করবে। মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। অর্ধনৈতিক অবস্থায় ধস নেমেছে। ১৪ থেকে ১৫ বছর ধরে আমরা অনেক নির্যাতিত হচ্ছি। আমাদের অনেক নেতাকর্মী গুম হয়েছে। ইলিয়াস আলীর মেয়ে এখনো পথ চেয়ে থাকে কখন বাবা আসবে। এই পরিবেশ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।


রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশার সভাপতিত্বে মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী টুকু, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, রাজশাহীর সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফা প্রমুখ।

শেয়ার করুন