০২ ডিসেম্বর ২০২৩, শনিবার, ০৮:২৪:৫৭ অপরাহ্ন
দেশের জিন্সের বাজারে ৮৫% চাহিদা মেটাচ্ছে
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০২-২০২৩
দেশের জিন্সের বাজারে ৮৫% চাহিদা মেটাচ্ছে

দেশের অভ্যন্তরীণ জিন্সের বাজারে চাহিদার ৮৫ শতাংশ পূরণ করছে কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লী। এখানে উৎপাদিত জিন্স পৌঁছে যায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় সারা দেশে এখানে উৎপাদিত জিন্স প্যান্টের কদর বেশি। যোগাযোগ সুবিধার কারণে পাইকাররা এখানে এসে জিন্সের কাপড় কিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যান।

ব্যবসায়ীরা জানান, আশির দশকে কেরানীগঞ্জে এই শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। বিশেষ করে ঢাকা সদরঘাট বন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় এখানকার ব্যবসার পরিধি দ্রুত   বৃদ্ধি পায়। জানা যায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, পূর্ব আগানগর, গুদারাঘাট, আগানগর ছোট মসজিদ, চরকালীগঞ্জ ও খেজুরবাগান এলাকা মিলিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে ছোট-বড় গার্মেন্টস শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। টঙ্গী, সাভারসহ বিভিন্ন বড় পোশাক কারখানা থেকে কাঁচামাল আসে এখানে। এসব কাঁচামাল দিয়েই জিন্স প্যান্ট তৈরি হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে দুজন শ্রমিক নিয়েও একেকটি জিন্সের কারখানা চালানো হচ্ছে। এখানে সব ধরনের পোশাক তৈরি হয়। তবে জিন্সের কারখানার পরিমাণ বেশি। এসব কারখানায় মূলত জিন্স ও গ্যাবার্ডিনের প্যান্ট তৈরি হয়। এখানকার জিন্স প্যান্ট দেশের বিভিন্ন অভিজাত মার্কেট থেকে শুরু করে ফুটপাতেও বিক্রি হয়। যা সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটায়। বর্তমানে এখানকার কিছু ব্যবসায়ী জিন্স প্যান্ট বিদেশে রপ্তানি করছেন। কারখানাগুলোর বেশির ভাগেরই নিজস্ব শোরুম রয়েছে।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মুসলিম ঢালী বলেন, এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ গার্মেন্টস পল্লী কালীগঞ্জ। প্রায় ১০ লাখ লোক এ গার্মেন্টস পল্লীতে কাজ করে। এখানে রয়েছে জিন্সের ৫ হাজার কারখানা। ১০ হাজারেরও বেশি দোকান জিন্স প্যান্ট পাইকারি বিক্রি করে। এখানে প্রায় সব ধরনের গার্মেন্টস আইটেম পাওয়া যায়। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ জিন্স প্যান্টের চাহিদা মেটানো হয় কালীগঞ্জ থেকে। জিন্স প্যান্ট দোকানে বিক্রি করার উপযোগী পর্যন্ত সব প্রক্রিয়া এখানে সম্পন্ন হয়। জিন্স প্যান্টের ওয়াশিং প্রজেক্ট. প্রিন্ট, ব্রাশিং, গ্যাসের চাপ, বালি ওয়াস, প্রিন্ট স্কিন সেলাইসহ সব ধরনের কাজ এখানে করা হয়। এ ব্যবসা এখনো কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রিক রয়েছে। কালীগঞ্জ গার্মেন্টস এলাকার জেলা পরিষদ মার্কেটের দোকানদার রিজওয়ান করিম বলেন, আমি প্রায় ২০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। পাশাপাশি আমার জিন্সের কারখানা রয়েছে। আমার কারখানায় প্রতিদিন দুই শিফটে ৪০ জন শ্রমিক কাজ করে। কারখানার শ্রমিক আবুল হোসেন বলেন, আমরা প্যান্ট সেলাই করে দিলে তা মালিক ডাইং ও বাইংয়ে পাঠাবেন। তারপর প্যাকেট করে মার্কেটে ছাড়া হবে। আমরা যে মূল্যে প্যান্ট দিতে পারি, আর কোনো জায়গা থেকে কেউ তা পারে না। লক্ষ্মীপুর জেলার কাজীরদিঘির পাড় এলাকা থেকে প্যান্ট কিনতে এসেছেন ফরিদ উদ্দীন। তিনি বলেন, আমি কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল কিনেছি। এখানে সব বয়সী মানুষের পোশাক পাওয়া যায়, যা দেশের আর কোথাও পাওয়া যায় না। জিন্স প্যান্ট তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন