১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৮:০০:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নতুন পে স্কেলে চাকরিজীবীরা পাবেন যে ১০ সুবিধা
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৫-০৯-২০২৬
নতুন পে স্কেলে চাকরিজীবীরা পাবেন যে ১০ সুবিধা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোয় বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানো, বাড়িভাড়া ও বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধি, বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।



সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এ কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি চলছে। অর্থ বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে। প্রজ্ঞাপন জারির আগে তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।


নতুন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন ও নিট পেনশন তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।


চলতি অর্থবছরে মূল বেতন ও নিট পেনশনের জন্য প্রয়োজন হবে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। এটি বর্তমান বরাদ্দের চেয়ে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা বেশি। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে এ খাতে প্রয়োজন হবে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা।


নতুন কাঠামোয় যেসব উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন থাকছে—


বাড়িভাড়া ভাতা: ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া দেওয়া হবে। বর্তমানে এ হার সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ। অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার পৌর এলাকায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় গ্রেড অনুযায়ী ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।


চিকিৎসা ভাতা: বয়সের ভিত্তিতে চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত ৩ হাজার, ৫০ বছর একদিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০ বছর একদিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।


বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি: নিম্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে। গ্রেড-৬ ও তার নিচের গ্রেডে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ৫ শতাংশ, গ্রেড-৩ ও ৪-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।


মোবাইল ভাতা: নতুন কাঠামোয় সব গ্রেডের কর্মচারী মোবাইল ভাতার আওতায় আসবেন। গ্রেড-৫ ও তার ওপরে ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-৬ ও তার নিচে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতা: যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


প্রতিবন্ধী সন্তানের ভাতা: সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা চালু করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ দুজন সন্তান এ সুবিধা পাবেন।


ঝুঁকি ও বিশেষ ভাতা: প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। ঝুঁকি ভাতা ও বিশেষ ভাতা ক্ষেত্রবিশেষে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে শিক্ষা সহায়ক, কার্যভার, আপ্যায়ন ও উৎসব ভাতা আগের হারেই থাকছে।


পাহাড়ি ও হাওড় এলাকায় ভাতা: পাহাড়ি এলাকায় মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়া হবে। পার্বত্য জেলা সদর ও সদর উপজেলায় এর সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা এবং অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় ৫ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাওড়, দ্বীপ ও চর এলাকায়ও ২০ শতাংশ হারে ভাতা বহাল রেখে সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।


পেনশন ও গ্র্যাচুইটি: ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নিট পেনশনের সর্বনিম্ন পরিমাণ ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।


সশস্ত্র বাহিনীর ভাতা: সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রতিরক্ষা, কিট, ডেঞ্জার মানি, দোভাষী ও শিক্ষকতা ভাতাসহ অধিকাংশ ভাতা বিদ্যমান হারের ওপর ১০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।


এ ছাড়া নববর্ষের ভাতার পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোয় সামরিক ও বেসামরিক দুই খাতের কর্মচারীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তন আনা হলেও সব ভাতা একসঙ্গে কার্যকর হবে না।


শেয়ার করুন