০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, সোমবার, ০৯:১৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
সীতাকুণ্ডে আগুন নেভাতে গিয়ে উল্লাপাড়ার ফায়ার সার্ভিস কর্মী নিখোঁজ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৬-০৬-২০২২
সীতাকুণ্ডে আগুন নেভাতে গিয়ে উল্লাপাড়ার ফায়ার সার্ভিস কর্মী নিখোঁজ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আলোচিত বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন নেভাতে গিয়ে নিখোঁজ ফায়ার সার্ভিস কর্মী শফিউল ইসলামের (২২) সন্ধান এখনো মেলেনি। সে উল্লাপাড়ার সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা গ্রামের আব্দুল মান্নানের বড় ছেলে শফিউল।

দু’বছর আগে ফায়ার সার্ভিসে তার চাকরি হয়। এরপর চট্টগ্রামের কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফায়ার ফাইটার হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন।

শফিউলের বাবা আব্দুল মান্নান রোববার রাত থেকে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা প্রধান অফিসে ছেলের খোঁজে অবস্থান করছেন। শফিউলের ছোট ভাই মামুন রওনা হয়ে গেছেন চট্টগ্রামে তার ভাইয়ের খোঁজে।

শফিউলের বাবা আব্দুল মান্নান জানান, একবছর আগে শফিউল বিয়ে করেন। বর্তমানে তার স্ত্রী আঁখি খাতুন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শফিউলের মা শাহনাজ পারভীন এমনিতেই অসুস্থ। তার ওপর ছেলের নিখোঁজের কথা শুনে তিনি এখন বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। তাকে কোনভাবেই বোঝানো যাচ্ছে না। মুঠোফোনে কথা বলার সময় কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

মান্নান জানালেন, ছেলের খোঁজ না মেলা পর্যন্ত তিনি ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়েই অবস্থান করবেন। এদিকে শফিউল গত বছর বিয়ে করেছে। তার স্ত্রী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। দু’ ভাইয়ের মধ্যে বড় শফিউল

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। তার বাবা- মা, পরিবারের সদস্যরা,স্ত্রী সকলেই শফিউলের কোন খোঁজ না পেয়ে পাগলপ্রায় অবস্হা। তাদের কান্না গ্রামবাসীদের চোখেও অশ্রু ঝরছে। উল্লাপাড়াবাসী কামনা করছে শফিউল যেন জীবিত অবস্হায় তার বাবা- মায়ের কোলে ফিরে আসে।

উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী স্টেশন অফিসার জালাল উদ্দিন জানান, কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার পর প্রথমেই কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে যান। এদের সঙ্গে শফিউল আলমও ছিলেন। এই অগ্নিকাণ্ডে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটাররা আগুন নেভাতে অংশ নেয়। তবে এখন পর্যন্ত উল্লাপাড়ার শফিউলের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন