২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ১২:০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পবা সার’ এর যুগান্তকারী যাত্রা শুরু: বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সমন্বিত উদ্যোগে কৃষিতে স্বচ্ছতা
রাকিবুল হোসেন শাহীন:
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৯-২০২৬
পবা সার’ এর যুগান্তকারী যাত্রা শুরু: বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সমন্বিত উদ্যোগে কৃষিতে স্বচ্ছতা

রাজশাহী জেলার কৃষকদের জন্য সুখবর। সার বিতরণ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘পবা সার’ ব্যবস্থাটি চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে রাজশাহী জেলার অন্যান্য সকল উপজেলাতেও একই ব্যবস্থা চালু করা হবে। আজ পবা উপজেলায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। এসময় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলোর একটি হলো সার। ফসলের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধারণের জন্য সারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সারের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।"

তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরে বলেন, শুধু ডিলারদের কাছে কত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে, সেই তথ্য থাকলেই হবে না। কোন এলাকায় কতজন কৃষক রয়েছেন, তাঁদের কতটুকু চাষযোগ্য জমি রয়েছে, কোন মৌসুমে কী ফসল চাষ করছেন এবং ওই ফসলের জন্য কী পরিমাণ সার প্রয়োজন এসব তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, আমন মৌসুমে কোনো কৃষি এলাকায় কতজন কৃষক কতটুকু জমিতে চাষ করছেন, তা জানা থাকলে ওই এলাকার সম্ভাব্য সারের চাহিদা আগেই নির্ধারণ করা সম্ভব। ফসলভেদে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপির চাহিদাও নির্ধারণ করা যাবে। পাশাপাশি কৃষকদের তালিকা ও তাঁদের সারের চাহিদার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ডিলার নির্ধারণ করে দেওয়া হলে কোন কৃষক কোন ডিলারের কাছ থেকে সার নেবেন, সেটিও আগে থেকেই জানা থাকবে। এতে কৃষকদের বিভ্রান্তি কমার পাশাপাশি সার বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়বে।

বিভাগীয় কমিশনারের এই দূরদর্শী ও কৃষকবান্ধব পরিকল্পনাকে মাঠ পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, কঠোর নজরদারি ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় রাজশাহী জেলায় সার ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বর্তমানে সারের মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সরকারি পর্যায়ে বাফার গুদাম এবং বিসিআইসি ও বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে ডিলারদের গুদামে থাকা মজুতের ওপরও নজরদারি প্রয়োজন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো কৃষক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার নিয়ে বাড়িতে মজুত করছেন কি না, সেটিও মনিটরিং করা হচ্ছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের এই জিরো টলারেন্স নীতির কারণে সার নিয়ে কালোবাজারির সুযোগ থাকছে না।

‘পবা সার’ প্রকল্পটির নকশা, পরিচালনা ও কারিগরি উন্নয়ন করেছে সিল্কোরা কনসালটেন্সি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন এই ব্যবস্থায় সার বরাদ্দ, মজুত, বিক্রি ও বিতরণের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। এতে কৃষক, ডিলার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে দেখতে পারবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী ও জেলা প্রশাসকের এই যৌথ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান উপস্থিত সারের ডিলার, কৃষক ও সরকারি কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন