২৭ এপ্রিল ২০২৪, শনিবার, ০৯:০৬:২২ অপরাহ্ন
দ্বাদশ নির্বাচন: ইইউর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৩-২০২৪
দ্বাদশ নির্বাচন: ইইউর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মিশন। এতে বেশকিছু বিষয়ে বাংলাদেশের প্রশংসা করা হলেও, মানবাধিকার ও বিরোধী দলগুলোর প্রতি সরকারি দলের দমন-পীড়নের মতো কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচন কিছু গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। 


ইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণগ্রেফতারের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক দলগুলোর আসন ভাগাভাগি চুক্তি এবং আওয়ামী লীগের নিজস্ব প্রার্থী ও দলের সঙ্গে যুক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ভোটারদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়নি। মিডিয়া এবং সুশীল সমাজও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ছিল না। 


দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিক সময়রেখা মেনে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দল টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল। এ নির্বাচন ছিল একটি অত্যন্ত মেরুকৃত রাজনৈতিক পরিবেশে পরিচালিত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার জোট শরিকরা নির্বাচন বয়কট করায় সত্যিকারের প্রতিযোগিতার অভাব ছিল। বিরোধীরা সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচন পরিচালনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়েছিল, যা প্রত্যাখ্যান করা হয়। 


প্রাক-নির্বাচনকালীন বিরোধী দলের ধারাবাহিক বিক্ষোভের অংশ হিসেবে ব্যাপক সহিংসতা ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর গুরুতর রূপ নেয়। পরবর্তীতে বিএনপি নেতাদের গণগ্রেফতার ও আটকের ফলে দেশের নাগরিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়। 


নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে বিরোধী দলগুলোর সমাবেশ, সমিতি, আন্দোলন এবং বক্তৃতার স্বাধীনতা কঠোরভাবে সীমিত করা হয়। গ্রেফতার এড়িয়ে যে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষমতা বিএনপির পক্ষে অসম্ভব ছিল। 


বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক আচরণের জন্য মৌলিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার অপরিহার্য, যা বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বলা আছে। কিন্তু এ অধিকারগুলো ক্ষুণ্ন করা হয় আইন দ্বারা যা অযথা বাকস্বাধীনতার অধিকারকে সীমাবদ্ধ করে। 


সমান ভোটাধিকারের নীতিকে পুরোপুরি সম্মান করা হয়নি। বিদ্যমান আসনের সীমানা নির্ধারণের ভিত্তিতে সংসদীয় আসনপ্রতি ভোটার সংখ্যায় তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। 


বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ন্যূনতম আইনি প্রয়োজনীয়তা মেনে চলে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ তার আইনি আদেশের এখতিয়ারের মধ্যে ছিল এবং লজিস্টিক প্রস্তুত ছিল। তবে কমিশনের ব্যাপক ক্ষমতা থাকলেও আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। তাই তারা একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দিতে সক্ষম হয়নি বলে মনে করে কিছু স্টেকহোল্ডার। তাদের ধারণা, ভোটদান এবং গণনা প্রক্রিয়ার সময় কমিশনের স্বাধীন মর্যাদা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করা হয়নি। স্টেকহোল্ডারদের মতে, ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে যার ফলে নিয়মিত আপডেট এবং ডেটা মিলেছে। ১ জানুয়ারি ২০২৩ এর মধ্যে যারা ১৮ বছরে পৌঁছায়নি তারা এ নির্বাচনে ভোট দিতে অযোগ্য ছিলেন। 


সাধারণভাবে সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নির্বাচনের দিন সহিংসতার বিচ্ছিন্ন ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে।  ব্যালট বাক্স ভর্তি এবং জালিয়াতির প্রচেষ্টাসহ নির্বাচন কমিশনে স্থানীয় প্রার্থীরা ভোটে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে কয়েকটির তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা করা হয়েছিল। ২৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। তবে অন্যান্য ঘটনা অবহেলিত ছিল এবং পর্যাপ্তভাবে তদন্ত করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটের হার ছিল ৪১.৮ শতাংশ। এটাই সারা দেশে ব্যাপক বৈষম্যের চিত্র প্রদর্শন করে। 

শেয়ার করুন