১২ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার, ১১:০৬:৪৩ অপরাহ্ন
কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০৭-২০২৪
কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে সোমবারও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে রাজধানীসহ সারা দেশে কয়েক ঘণ্টার জন্য সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথে অচলাবস্থা তৈরি হয়। 


রাজধানীর শাহবাগ মোড়, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, চানখাঁরপুল, আগারগাঁও মোড়, গুলিস্তান, জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধের ফলে এসব এলাকা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানীর বড় এলাকা। ফলে অফিস শেষে ঘরমুখী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। এদিকে ৬৪ জেলায় আরও কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। 


এজন্য ৬৫ সদস্যের সমন্বয়ক টিম গঠন করা হয়েছে। আজ সারা দেশে প্রতিনিধি বৈঠক করবেন তারা। 

এদিনও তারা অনলাইনে-অফলাইনে গণসংযোগ করবেন। এরপর বিকালে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। 


শিক্ষার্থীরা কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দাবিতে আন্দোলন করছেন। দাবিগুলো হলো-১. ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা। ২. কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ব্যতীত)। ৩. সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া। ৪. দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবরোধ বিক্ষোভ : সোমবার বেলা ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে বেলা সাড়ে ৩টায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে লেকচার থিয়েটার ভবন, মাস্টার দা সূর্য সেন হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, ভিসি চত্বর, টিএসসির রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। 


এ সময় তারা ‘অবরোধ অবরোধ, শাহবাগ অবরোধ’, দফা এক দাবি এক, কোটা নট কাম ব্যাক’, ‘সংবিধানের/মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ,’ ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘কোটা প্রথা, বাতিল চাই বাতিল চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।


শিক্ষার্থীদের মিছিল শাহবাগ পৌঁছার পর সেখান থেকে কিছু শিক্ষার্থী গিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল, কাওরান বাজার ও মিন্টো রোডের মোড় অবরোধ করেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সায়েন্স ল্যাব অবরোধ করেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেন ইডেন কলেজ ও হোম ইকনোমিক্স কলেজের শিক্ষার্থীরা। 


আর চানখাঁরপুল, ঢাকা মেডিকেল কলেজসংলগ্ন মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে উঠার রাস্তা অবরোধ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্? হলের শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ৮টায় কর্মসূচি ঘোষণা করে শাহবাগ ছাড়েন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ সরকারের উদ্দেশে বলেন, ছাত্রদের যদি কোনো ক্ষতি হয় তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে। আমরা থাকব রাস্তায় আর আপনারা থাকবেন এসি রুমে। তা হবে না। আপনারা যদি অতি সত্ত্বর আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেন তাহলে বুঝব আমাদের পালস বুঝতে পারেননি।


সার্জিস আলম বলেন, বাংলাদেশ মনে করেছিল ছাত্র-জনতা ঘুমিয়ে গিয়েছে কিন্তু ছাত্র সমাজ ঘুমিয়ে পড়েনি। যখনই প্রয়োজন হবে ছাত্র সমাজ আবারও ২৪-এর মতো জেগে উঠবে। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বলেন হাইকোর্টের রায় মেনে নিতে। আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে চাই কোটার প্রতি আপনার এত দরদ কেন? আপনি কি কোটার প্রডাক্ট নাকি। আজকে ঢাকা শহর ব্লকেড হয়েছে। এছাড়াও ৪০টি জেলায় ব্লকেড হয়েছে।


আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, হাইকোর্টের ঘোষণার পর আমরা আমাদের আন্দোলন শুরু করেছি। অ্যাটর্নি জেনারেলকে স্মারকলিপি দিয়েছি। যত ধরনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া করার করেছি। আমাদের মন্ত্রীদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।


শেয়ার করুন