নাটোরের লালপুরে ঈদের নামাজের পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেলে রামকৃষ্ণপুর চিনিবটতলা ঈদগাহ মাঠে লালপুর উপজেলা বিএনপি ও গেপালপুর পৌর বিএনপির এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন—সরকার পতনের আগে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া চালিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, কিন্তু এখনো তারা আইনের আওতায় আসেনি। শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গেলেও তার দোসররা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। ঈদের নামাজ শেষে আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী বিএনপি কর্মীদের ওপর গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
বিক্ষোভ জনসভার প্রধান অতিথি বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ৫ তারিখের পরে আমরা আওয়ামী লীগের বাড়িঘরে হাত দিতে দিই নাই। অথচ তারা ঈদের দিনে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করল। সেখানে আমাদের নেতাকর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছে তারা আজকে হাসপাতালে। আমরা এখনো তাদেরকে কিছু বলছি না তার মানে এই না যে আমরা চুপ করে বসে থাকবো। আমরা এখনো ধৈর্য ধরে রয়েছি। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কোনোদিন ভালো হবে না। আমরা প্রশাসনের ভাইদের বলতে চাই—এই যে অস্ত্র দিয়ে গুলি করা হয়েছে সেই অস্ত্রগুলো নিয়েই ৪ আগস্ট লালপুরের মাটিতে অস্ত্র মহড়া দিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। আপনারা চাইলে তারা কেউ লালপুরের বাইরে যেতে পারবে না। আপনারা দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনুন।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ পাপ্পু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্ঠু, হামিদুর রহমান বাবু, গোলাম মোস্তফা নান্নু, হামিদুর রহমান বাবু, গোপালপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, সদস্য সচিব আলহাজ্ব জিল্লুর রহমান, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রঞ্জু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সোমবার উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামে ঈদের নামাজ শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গুলিবর্ষণ করেন। এতে বিএনপির একজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন পাঁচজন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে।