ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে যাচাই-বাছাই শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ঠাকুরগাঁও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ইরশাত ফারজানা আজ দুপুরে মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন।
জেলা প্রশাসক ইরশাত ফারজানা জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ছাত্রশিবির ঢাকা দক্ষিণের সাবেক সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সহ-সভাপতি খাদেমুল ইসলাম মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপি মহাসচিবসহ ৩টি মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের ৩টি আসনে মোট ২১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল এবং তিনজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-২ এবং ঠাকুরগাঁও- ৩ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।
ফলে হাই-ভোল্টেজ এই আসনে ত্রিমুখী বা বহুমুখী লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট এখন থেকেই তৈরি হতে শুরু করেছে।
সংশোধিত তফশিল অনুযায়ী, গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলবে আগামী ৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করা যাবে। দাখিল হওয়া আপিলগুলোর নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। কোনো প্রার্থী চাইলে ২০ জানুয়ারির মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপর ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে শুরু হবে নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা জোরেশোরে নামবেন নির্বাচনী প্রচারে। এই প্রচার চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভাগ্য।
এদিকে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবরে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। তবে ভোটের অঙ্কে শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হবেন, সে সিদ্ধান্ত দেবে ঠাকুরগাঁওয়ের ভোটাররাই।

