০৭ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৮:৫৪:১১ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া দুই শিশুর একজনের মৃত্যু
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-০১-২০২৬
চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া দুই শিশুর একজনের মৃত্যু

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কনকনে শীতের মধ্যে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।



সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই বছর বয়সী ছেলে শিশুটির মৃত্যু হয়।


এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকার পিএবি সড়কের পাশ থেকে অভিভাবকহীন অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করেন স্থানীয় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মহিম উদ্দিন।


কনকনে শীতের মধ্যে পড়ে থাকা শিশু দুটিকে প্রথমে নিজের কাছে আশ্রয় দেন তিনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন শিশু দুটিকে হেফাজতে নেয়।


উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে একজন চার বছর বয়সী মেয়ে এবং অন্যজন দুই বছর বয়সী ছেলে। গত মঙ্গলবার আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার শিশু দুটিকে নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে যান।


জেলা প্রশাসক শিশুদের চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে সময় মেয়েশিশুটিকে অটোরিকশাচালক মহিম উদ্দিনের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং গুরুতর অসুস্থ ছেলেশিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


প্রথমে ৩০ ডিসেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে এক সপ্তাহের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার তার মৃত্যু হয়।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, শিশুটির মরদেহ তার দাদির কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নিজ গ্রামে মরদেহটি নিয়ে যাওয়া হবে।


চিকিৎসকদের বরাতে ইউএনও জানান, শিশুটি জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী ছিল এবং চর্মরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের বাবার নাম খোরশেদ আলম। তার বাড়ি খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় হলেও তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মিয়ারবাজার এলাকায় রিকশা চালাতেন। তার স্ত্রী সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা। প্রায় ছয় মাস আগে স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান এবং এরপর আর ফিরে আসেননি।


এদিকে নিহত শিশুটির চার বছর বয়সী বোন আয়েশা বর্তমানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। সে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা পাচ্ছে।


উল্লেখ্য, মানবিক বিবেচনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন উদ্ধার হওয়া শিশু দুটির সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করে।


শেয়ার করুন