১৯ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০২:২৩:০৯ অপরাহ্ন
মনোনয়ন প্রত্যাহার পর্যন্ত সবার জন্য দরজা খোলা : অ্যাডভোকেট জুবায়ের
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০১-২০২৬
মনোনয়ন প্রত্যাহার পর্যন্ত সবার জন্য দরজা খোলা : অ্যাডভোকেট জুবায়ের

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণ এখনো চূড়ান্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত নানা পরিবর্তন ঘটতে পারে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সমসাময়িক রাজনীতি ও নির্বাচনী ঐক্য নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা, আসন বণ্টন কিংবা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এমনকি নির্বাচনের আগমুহূর্তেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনী ঐক্যের কাঠামো নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক জোট নয়; বরং একটি নির্বাচনী ঐক্য প্রক্রিয়া। সে কারণেই এখানে আহ্বায়ক, সদস্য সচিব বা নির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, “জোট হলে কাঠামো থাকত। এখানে তা হয়নি। এখানে ‘বাই রোটেশন’ পদ্ধতিতে সবাই বক্তব্য রেখেছেন। এটিকে একটি সুন্দর রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকাশ বলা যায়।”

পাঁচ দফা দাবি ও আন্দোলন প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বর্তমান বাস্তবতাকে সামনে রেখেই দাবিগুলো নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত দাবি ছিল না।
তিনি বলেন, “পাঁচ দফা দাবি আমরা বলেছি, অন্যরাও বলেছে। আমাদের কর্মসূচি ও অবস্থান সবার কাছেই পরিষ্কার।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনী ঐক্য থেকে সরে যাওয়ার প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, বিষয়টি এখনো রাজনৈতিকভাবে চূড়ান্ত নয়। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় পর্যন্ত আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে কিছু আবেগী বক্তব্য এসেছে, তবে ভবিষ্যতে আবার আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এটি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

নির্ধারিত একটি বৈঠক না হওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত একটি মানবিক ভুল। সংশ্লিষ্ট নেতা অসুস্থ থাকায় বৈঠকের বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন এবং পরে দুঃখ প্রকাশও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। এখানে কোনো তুচ্ছতাচ্ছিল্য বা অসম্মানের প্রশ্ন নেই।”

আসন বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৪৭টি আসন খালি রাখা হয়েছে। এসব আসনের কিছু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য এবং কিছু অন্যান্য শরিক দলের জন্য সংরক্ষিত ছিল। বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় এসব আসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও লিয়াজোঁ কমিটি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, এটি জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত নীতি। জনগণ যদি ভোটের মাধ্যমে দায়িত্ব দেয়, তাহলে তারা এককভাবে নয়; বরং সব রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবে।
তিনি বলেন, “এটা আমাদের ডিক্লেয়ারড পজিশন।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, দল বা জোটের গঠন যাই হোক না কেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
তিনি বলেন, “আমরা ৩০০ আসনেই থাকব। ৩০০ আসনেই প্রার্থী থাকবে।”

শেয়ার করুন