১৯ জানুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ০৮:৫৪:২৮ অপরাহ্ন
জানুয়ারিতে আংশিক, পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকর কবে?
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-০১-২০২৬
জানুয়ারিতে আংশিক, পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল কার্যকর কবে?

দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনা শেষে অবশেষে চাকরিজীবীদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে এই কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।


কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে কার্যকরের কথা বলা হলেও তা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে পুরো মাত্রায় বাস্তবায়ন হবে। প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে।


এদিকে, আগামী ২১ জানুয়ারি আবারও সভায় বসবে জাতীয় বেতন কমিশন। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এদিন কমিশন নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রতিবেদন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেবে। এর পর তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।




 

এ বিষয়ে পে কমিশনের প্রধান, সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান গণমাধ্যমকে জানান, আমরা আগামী ২১ জানুয়ারি (বুধবার) প্রধান উপদেষ্টার সময় পেয়েছি।


সেদিন আমরা প্রতিবেদন তার হাতে তুলে দেব। এতটুকু বলতে পারি, খুব ভালো কিছু হচ্ছে।

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ২১ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। এতে সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়।


কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশমালা জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।




 

সুপারিশকৃত কাঠামোতে নিচের দিকের গ্রেডগুলোর বেতন ও ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থাকলেও সেটি দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এদিকে, সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে বেতন ৭৮ হাজার টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে।


পাশাপাশি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন।

এদিকে, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হলে পে স্কেল বাস্তবায়ন আলোর মুখ দেখবে। বিগত ১০ বছরে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে কোনো কাজ হয়নি। আমরা পে কমিশন করেছি। এ বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া দেশের অর্থনীতি চাঙা করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।’


তিনি আরো বলেন, ‘পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু অর্থ নয়, বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, এজন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। তবে দেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হলে পে স্কেল বাস্তবায়ন আলোর মুখ দেখবে। এসব বিষয় পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার বাস্তবায়ন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


২০২৪ সালের আগস্ট মাসে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার দাবি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার বদলে বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।


শেয়ার করুন