১৪ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৪:০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন
প্রতারণা এড়াতে নতুন সিদ্ধান্ত নিল রেল কর্তৃপক্ষ
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৩-০৫-২০২৬
প্রতারণা এড়াতে নতুন সিদ্ধান্ত নিল রেল কর্তৃপক্ষ

আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ট্রেনে যাত্রী হয়রানি ও টিকেট সংগ্রহ সংক্রান্ত প্রতারণা এড়াতে বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত অ্যাপ (রেল সেবা) ব্যবহার করে যাত্রীদের টিকেট ক্রয়ের পরামর্শ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।


বুধবার (১৩ মে) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী গণমাধ্যমের কাছে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।


তিনি জানান, বুধবার থেকে ঈদের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রেনের টিকেট বিক্রির বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে তাদের ট্রেনের টিকেট সংগ্রহ করে দেওয়ার কোনো সামর্থ্য নেই। এরা মূলত প্রতারক। এদের ফাঁদে পা দিয়ে অনেক যাত্রী হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রেই তারা বিকাশ, নগদ বা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, এমনকি পূর্বে ব্যবহৃত সিমকার্ড বন্ধ করে দেয়।



রেজাউল করিম সিদ্দিকী বলেন, প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের রেজিস্টার্ড একটি আইডি থেকে নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে একক যাত্রায় সর্বোচ্চ চারটি টিকেট ক্রয় করা যায়। এক্ষেত্রে আইডিধারী ব্যক্তির সহযাত্রীদের নামও সিস্টেমে ইনপুট দেওয়া বাধ্যতামূলক।



তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঈদযাত্রা উপলক্ষে ট্রেনের শতভাগ টিকেট অনলাইনে বিক্রয় করা হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত অ্যাপ (রেল সেবা) ব্যতীত অন্য কোথাও ট্রেনের টিকেট বিক্রয় করা হচ্ছে না। কোনো যাত্রী বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত অ্যাপ (রেল সেবা) ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থান থেকে টিকেট ক্রয় করলে তিনি প্রতারিত হবেন।


রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী যে ব্যক্তির আইডি ব্যবহার করে টিকেট ক্রয় করা হবে ঐ ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন ও ফটো সম্বলিত আইডি কার্ডসহ তাকে ভ্রমণ করতে হবে। আইডিধারী ব্যক্তি ও টিকেটে উল্লিখিত সহযাত্রী ব্যতীত অন্য কেউ ভ্রমণ করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।


তিনি জানিয়েছেন, কোনো প্রতারকচক্র কোনো মাধ্যমে অন্য কাউকে টিকেট সংগ্রহ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে বা অন্য কারো আইডি ব্যবহার করে ক্রয়কৃত টিকেট বিক্রির চেষ্টা করলে তাকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার জন্য অথবা বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)-এর সহায়তা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন ১৩১ নম্বরে ডায়াল করে এ ব্যাপারে অভিযোগ জানানো যাবে। সকল ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।



শেয়ার করুন