০৬ জুলাই ২০২৬, সোমবার, ০৬:১৭:২০ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা নেইমারের
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৬-০৭-২০২৬
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা নেইমারের

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র।



সোমবার (৬ জুলাই) বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচের যোগ করা সময়ের ১০ম মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। পরে ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় দলের হয়ে নিজের যাত্রার ইতি টানার কথা জানান তিনি।


৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি, সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখানেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।”


ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমার ১৩০ ম্যাচে করেছেন ৮০ গোল, সঙ্গে রয়েছে ৫৯টি অ্যাসিস্ট। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করলেন তিনি।


জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের অন্যতম সাফল্য ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ জয়। এছাড়া ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকে অধিনায়ক হিসেবে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো অলিম্পিক ফুটবলে স্বর্ণপদক জেতানোর কৃতিত্বও রয়েছে তার।


চোটের কারণে বিশ্বকাপের আগে তার ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা থাকলেও প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। তবে পুরো টুর্নামেন্টে পুরোপুরি ছন্দে ছিলেন না এই তারকা। কোনো ম্যাচেই পুরো এক অর্ধ খেলতে পারেননি। নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেও তিনি শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন; দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে পেনাল্টি থেকে গোল করেন।


এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ৯-এ উন্নীত করেন নেইমার। একই সঙ্গে কিংবদন্তি পেলের পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি। তবে ব্যক্তিগত এই অর্জন ব্রাজিলকে বিদায় থেকে রক্ষা করতে পারেনি।


এই হারের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়হীনতার ধারাও দীর্ঘ হলো। ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর নকআউটে কোনো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষকে হারাতে পারেনি সেলেসাওরা।



শেষ বাঁশি বাজার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নেইমার। চোখের জল মুছতে মুছতেই জানিয়ে দেন, ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে তার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।


বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণ থাকলেও গোল, অ্যাসিস্ট এবং এক দশকের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা তারকাদের একজন হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন নেইমার।


শেয়ার করুন