০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, সোমবার, ০৯:৪৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
সংসদ নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে যে প্রস্তাব দিলেন ডিসি-এসপিরা
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-১০-২০২২
সংসদ নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে যে প্রস্তাব দিলেন ডিসি-এসপিরা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) একটি প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপাররা (এসপি)।তারা চান, ভোটকেন্দ্র না বাড়িয়ে ইসি যেন ভোটকক্ষ বাড়ায়। প্রয়োজনে প্রতিটি কেন্দ্রে যেন বুথের সংখ্যা বাড়ানো হয়।


এর ব্যাখ্যা হিসেবে ডিসি-এসপিরা বলেন, কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করে তারা এ প্রস্তাব দিয়েছেন। 


এদিকে ডিসি-এসপিদের এই প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে ইসি।


শনিবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেশের সব ডিসি ও এসপিদের মতবিনিময়ে এ প্রস্তাব করা হয়।


সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে তিন ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক হয়।


সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশের বর্তমান ভোটারের সংখ্যা ১১ কোটি ৩২ লাখ। এক বছরের ব্যবধানে ভোটার বেড়েছে ১৫ লাখ ৭০ হাজারের বেশি।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার সংখ্যা আরও বাড়বে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল প্রায় ৪০ হাজার। সে হিসাবে ভোটার বাড়লে ভোটকেন্দ্র না বাড়িয়ে কক্ষ বাড়াতে চান ডিসি-এসপিরা।


মতবিনিময়ে ডিসি-এসপি ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আক্তার হোসেন ও অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুল ইসলাম অংশ নেন।


বৈঠক শেষে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল ও জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।


সচিব আক্তার হোসেন বলেন, ‘জেলা পরিষদ ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে যে নির্বাচনগুলো হয় তা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলাপ হয়েছে। ডিসি-এসপি সাহেবরা পরামর্শ দিয়েছেন। তারা তাদের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।’


তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল ৪০ হাজারের মতো। আগামী নির্বাচনে এ ভোটকেন্দ্র বেড়ে প্রায় ৪৩ হাজারের ওপরে হয়ে যাচ্ছে। আমরা বলেছি, কমিশন যেন নির্দেশনা দেন যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ মাঠ প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের। আর যে জায়গাগুলাতে সুরক্ষিতভাবে ভোটগ্রহণ করা যাবে সেটা রেখে যেখানে অপ্রয়োজনীয় ভোটকেন্দ্র রয়েছে সেগুলোর পরিবর্তে প্রতিটি ইউনিয়নে যৌক্তিক সংখ্যক ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করার কথা বলেছি। যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঠিকভাবে মোতায়েন করা যায়।’


সচিব জানান, একটি ইউনিয়নে ৯-১০টি বা তার থেকেও বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের যে সংখ্যা তাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা যায় না। এজন্য আমরা চাচ্ছি, ভোট ভেন্যুর সংখ্যা কমিয়ে বুথ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। 


সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সংযোগ রয়েছে। তারা অর্থপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, ভোটকেন্দ্রগুলো রিঅ্যারেঞ্জ করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোটারদের দৃষ্টিতে আরও সহজতর হতে পারে। আমরা তাদের এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করব।’


কাজী হাবিবুল আউয়ার আরও বলেন, ‘তারা (ডিসি-এসপিরা) ইভিএম প্রশ্নে ভোটারদের এডুকেশনের পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা সেটা করব।’

শেয়ার করুন