২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৫০:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশসহ ৮ দেশের জন্য ভয়াবহ সতর্কবার্তা
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০-০৯-২০২৬
বাংলাদেশসহ ৮ দেশের জন্য ভয়াবহ সতর্কবার্তা

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বরফধস ও ভয়াবহ বন্যার ঘটনায় হিমালয়-নির্ভর আট দেশের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলতে থাকায় এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।


হিমালয় পর্বতমালার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য সাম্প্রতিক ঘটনাটি বড় ধরনের সতর্কসংকেত। পাহাড়ের উচ্চভূমিতে বরফধস বা আকস্মিক পাহাড়ি ঢল শুরু হলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসতে পারে সমতলের দিকে।


গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে অবস্থান বাংলাদেশের। ফলে উজানে অতিবৃষ্টি, বরফ গলা পানি কিংবা পাহাড়ি ঢলের প্রভাব দ্রুতই দেশের নদ-নদীতে পড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী দিনে আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন ও অসময়ে পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


হিমালয়ে যা ঘটছে, তার প্রভাব শুধু পাহাড়েই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বরফধস ও ভয়াবহ বন্যার পর বাংলাদেশসহ আট দেশের জন্য সতর্কতা জারি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে হিমবাহ গলন ও পাহাড়ের অস্থিতিশীলতা বাড়ায় ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন এমন দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত দুর্যোগ মোকাবিলায় এখন আর শুধু পৃথকভাবে জাতীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন ও পাকিস্তানসহ হিমালয় ও এর নদী অববাহিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।


বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলের আবহাওয়ার আগাম তথ্য, বরফ গলার পরিস্থিতি এবং নদ-নদীর পানিপ্রবাহের তথ্য দ্রুত আদান-প্রদানের জন্য কার্যকর যৌথ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছানো সম্ভব হলে আকস্মিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।


হিমালয়ের পরিবর্তিত পরিবেশগত পরিস্থিতি তাই শুধু পাহাড়ি এলাকার জন্য নয়, এর বিশাল নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের দেশগুলোর জন্যও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে। সূত্র- নিউইয়র্ক টাইমস

শেয়ার করুন