০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, বুধবার, ০৩:৫২:৫৮ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রামে নির্ধারিত দামে মিলছে না ভোজ্যতেল
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৭-২০২২
চট্টগ্রামে নির্ধারিত দামে মিলছে না ভোজ্যতেল

চট্টগ্রামে সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে না। দাম কমানোর পর চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৮৫ টাকা বিক্রি করার কথা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায়। একই ভাবে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেল এবং পাম তেলও। বাধ্য হয়েই বেশি দামে ভোজ্যতেল কিনছেন ক্রেতারা। আবার নগরীর চেয়ে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মুদির দোকানগুলোতে আরও বেশি দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ভোজ্যতেলের খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও এখন বিক্রি হচ্ছে আগের কেনা ভোজ্যতেল। এ কারণে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, দেশে কোনো জিনিসের দাম বাড়লে পলকেই বেড়ে যায়। আর কমলে তা সহজে কার্যকর হয় না। নানা অজুহাতে বাড়তি দামে বিক্রি করতে থাকে বিক্রেতারা। ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে তেমনটিই ঘটছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে আগের দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে বাজারে। দাম কমার পর এ পরিস্থিতি বিরাজ করলেও দাম বাড়ার সময় দেখা দিয়েছিল ভিন্ন পরিস্থিতি। তখন সরকার নতুন দাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে খুচরাসহ সব বাজারে দাম বাড়িয়ে দেয় বিক্রেতারা। অথচ এখন দাম কমানোর কয়েক দিন পরও সেই সুফল পাচ্ছেন না ক্রেতারা। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার কারণে ১৭ জুলাই দেশে ভোজ্যতেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। ২১ জুলাই নতুন দাম কার্যকর করা হয়। সরকারের নির্ধারিত নতুন দাম লিটারপ্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৪ টাকা কমিয়ে ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া খোলা তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৬৬ টাকা এবং খোলা পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে ভোজ্যতেলের দাম কমার কথা। তবে শুক্রবার নগরীর একাধিক কাঁচাবাজার এবং মুদি দোকান ঘুরে আগের বাড়তি দামেই ভোজ্যতেল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। নগরীর চকবাজার, রিয়াজুদ্দিন কাঁচাবাজার, দুই নম্বর গেটের কর্ণফুলী কমপেক্স বাজার, বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯০ টাকায় এবং পাম তেল লিটারপ্রতি ১৮৫ টাকায় বিক্রি করছেন দোকানিরা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও ওইসব ভোজ্যতেলের চালান এখনো দেশে আসেনি। তাদের কাছে আগের চালানের তেল আছে। যেগুলো আগের বাড়তি দামে কেনা। যে কারণে তেলের দাম এখনো আগের দামেই বিক্রি করছেন তারা। নতুন দামের তেল বাজারে এলে তখন তারাও নতুন দামে বিক্রি করবেন। আবার অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, সরকার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু বাজারে তদারকি করছে না। শুধু দাম নির্ধারণ করলেই হবে না। কোম্পানি, আড়তদার বা পাইকারিতে দাম কমানো হয়েছে কিনা সেটা তদারকি করতে হবে। তাদের কাছ থেকে আমরা কম দামে ভোজ্যতেল পেলেই খুচরায় কম দামে বিক্রি করতে পারব।

বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী কামরুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি এখনো ১৯৫ থেকে ১৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৮৫ টাকায়। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। এগুলো আগের তেল। এ তেলে দাম কমানো সম্ভব নয়। কারণ এ তেলগুলো আগের দামেই কেনা।

বাজারদর : সাগরে মাছ ধরা শুরু হলেও চড়া মাছের বাজার। তবে সবজির সরবরাহ বাড়ার কারণে কমছে সবজির দাম। প্রতি কেজি সবজির দাম ১০ থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত কমেছে। গত সপ্তাহে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া শসা আজ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১০ টাকা কমে প্রতি কেজি বেগুন ৬০ টাকা, ঢেড়শ ৩০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, করলা ৫০, পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া প্রতি কেজি লাউ ৩০ থেকে ৪০, চাল কুমড়া ৩৫ থেকে ৪০, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কচুর লতি, ঝিঙ্গা ও মূলা ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাটগুলোতে ইলিশ মাছের মহোৎসব চলছে। তারপরও দাম বেশি। সেখানে প্রতি কেজি মাছ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে সে মাছ বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকায়। মাঝারি আকারের ইলিশ কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকা ও বড় আকারের ইলিশ ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া রুই-কাতলার কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি শিং মাছ ৫৫০, পাবদা ৫০০, চিংড়ি ৬৫০ ও কৈ ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ার করুন