১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ১০:৫০:৫০ পূর্বাহ্ন
টেলিগ্রামে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০১-২০২৬
টেলিগ্রামে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামে টাস্ক সম্পন্ন করিয়ে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে এক কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত একটি প্রতারক চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. সোহেল মিয়া (৪১)।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১১ জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ভিকটিমের দায়ের করা মামলার অভিযোগ অনুযায়ী প্রতারক চক্রটি চারটি পৃথক বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও নয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা আত্মসাৎ করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি অজ্ঞাত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ভিকটিমকে অনলাইন পার্টটাইম জবের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাসায় বসে অবসর সময়ে কাজ করে আয় করা যাবে— এমন আশ্বাসে রাজি হয়ে ভিকটিম প্রতারক চক্রের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি অনলাইন সাইটে ওয়ালেট খুলে টাস্ক সম্পন্ন করেন। প্রথম দফায় তিনি ১৫০ টাকা উপার্জন করেন।

পরবর্তীতে একের পর এক টাস্ক সম্পন্ন করতে থাকলে প্রতারক চক্র তাকে মোট ২৮টি টাস্ক শেষ করলে ৩৮ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এরই মধ্যে তিনি ১৪টি টাস্ক সম্পন্ন করে ২ হাজার ১০০ টাকা আয় করেন। পরে ২ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে ২ হাজার ৮০০ টাকা ফেরত পাবেন— এমন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে আরও একটি টাস্ক দেওয়া হয়।

তবে টাস্ক সম্পন্ন করার পর ওয়ালেটে টাকা জমা দেখালেও উত্তোলন করতে ব্যর্থ হন ভিকটিম। বিষয়টি জানালে প্রতারক চক্র তাকে বিভিন্ন বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বাধ্য করে। অন্যথায় জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করা যাবে না বলে জানানো হয়। এভাবে ধাপে ধাপে প্রতারণার মাধ্যমে ভিকটিমের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি।

টাকা ফেরত চাইলে ভিকটিমকে প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ভিকটিম গত ২১ মে ডিএমপির লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে সিআইডি।

সিআইডির মুখপাত্র আরও জানান, এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর এই প্রতারক চক্রের মূলহোতা নাদিম (৩২) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের নাম প্রকাশ করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মো. সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

শেয়ার করুন