রাজশাহী ভুয়া ডিজিএফআই কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম শাহিনুর ইসলাম (৩০)। তিনি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ভরট্ট শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা।
সোমবার (৭ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে নগরের লক্ষ্মীপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে আরএমপির মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, তারা খবর পান যে এক ব্যক্তি নিজেকে ডিজিএফআইয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (এডি) পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের দলটি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তিনি নিজেকে ডিজিএফআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে একটি পরিচয়পত্র দেখান। তবে তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখা দিলে একপর্যায়ে তিনি ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেফতারের সময় তার দেহ তল্লাশি করে মানিব্যাগ থেকে দুটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। এর একটিতে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর, ডিজিএফআই’ এবং অন্যটিতে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার, ডিজিএফআই’ লেখা ছিল। এ ছাড়া তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, গ্রেফতার ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ডিজিএফআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণা করে আসছিলেন। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে বিভিন্ন নারীর অশালীন ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশকে জানান, প্রতারণার মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে এসব ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নিজের মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় পর্নোগ্রাফি আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। তাকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

