৩১ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ০৭:০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
‘বোঝাই যাচ্ছে এখানে সবকিছু কীভাবে হচ্ছে’
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০১-২০২৬
‘বোঝাই যাচ্ছে এখানে সবকিছু কীভাবে হচ্ছে’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে আবার ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা আরও গভীর হয়েছে।


নাজমুল ইসলামের পুনর্বহাল এমন এক সময়ে এলো, যখন ক্রিকেট প্রশাসন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ক্রিকেটারদের একাংশ মনে করছেন, বোর্ডের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাদের অবস্থান ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের এক শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটার বলেন, ‘দয়া করে ক্রিকেটকে বাঁচান, এর বেশি আর কিছু বলার নেই।’ তার এই মন্তব্যে খেলোয়াড়দের অসহায়ত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


গত ১৪ জানুয়ারি দেওয়া এক মন্তব্য থেকেই নাজমুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্কের শুরু। সেদিন তিনি বলেছিলেন, আসন্ন আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ব্যর্থ হলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো দায় বোর্ডের নেই। তার বক্তব্যের পরপরই ক্রিকেটারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।


টানা প্রতিবাদের মুখে নাজমুল ইসলামকে তখন ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়। একপর্যায়ে ক্রিকেটাররা সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল), যা একদিনের জন্য স্থগিতও ছিল।


পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে ক্রিকেটাররা মাঠে ফেরেন। তখন তারা নাজমুল ইসলামের সম্পূর্ণ অপসারণের দাবি থেকে সরে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা এবং পরিচালনা পর্ষদ সংক্রান্ত বিষয়ে বোর্ডের প্রতিশ্রুত প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার দাবি জানান।


তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রক্ষা হয়নি বলে অভিযোগ ক্রিকেটারদের। কোনো প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা আসেনি। বিসিবির দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাবও নাজমুল ইসলাম নির্ধারিত সময়সীমার এক দিন পরে দেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার বোর্ড সভায় নাজমুল ইসলাম পরিচালকদের সমর্থন পান। সেখানেই তাকে আবার ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। বিসিবির একটি সূত্র জানায়, শৃঙ্খলা কমিটির পর্যবেক্ষণ জমা দেওয়ার পর ‘সভাপতির নির্দেশেই তাকে পুনর্বহাল করা হয়েছে’।


এই সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের অসন্তোষ আরও বেড়েছে। এক ক্রিকেটার ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘এটা তো খুবই ভালো খবর।’ পরে যোগ করেন, ‘এতেই বোঝা যায় এখানে সবকিছু কীভাবে হচ্ছে।’


ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবি প্রকাশ্যে জানিয়েছি, বোর্ডও প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাহলে কে প্রতিশ্রুতি রাখছে না, সেটা পরিষ্কার। দায়িত্বও তাদেরই, যারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না।’


এ বিষয়ে বিসিবির মিডিয়া কমিটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


এরই মধ্যে আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে যোগ হয়েছে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা। ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের জন্য বিসিবির আবেদন আইসিসি প্রত্যাখ্যান করায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।


সব মিলিয়ে নাজমুল ইসলামের পুনর্বহাল, বোর্ডের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়া এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে না খেলার বাস্তবতা—এই তিনটি বিষয় দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে ক্রিকেটারদের মধ্যে।


শেয়ার করুন