১২ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার, ১১:২০:৫০ অপরাহ্ন
সুদান থেকে দেশে ফিরলেন ১৩৬ বাংলাদেশি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০৫-২০২৩
সুদান থেকে দেশে ফিরলেন ১৩৬ বাংলাদেশি

সংঘাতকবলিত সুদান থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা হয়ে দেশে ফিরেছেন ১৩৬ বাংলাদেশি। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। তাদের স্বাগত জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ।

এ সময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, সবাইকে কিছুটা হলেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এজন্য সুদানফেরত সবাইকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এছাড়া যারা এখনো সুদানে আছেন, তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনা হবে। ৯ বা ১০ তারিখ আরেকটি ফ্লাইট আসতে পারে। এখনো পর্যন্ত সেখানে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর নেই।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার জানান, জেদ্দা থেকে ১৩৬ জন সুদান প্রবাসীকে নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ৩৩৬ সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ঢাকা পৌঁছায়। তারা বাংলাদেশ দূতাবাস ও সৌদি সরকারের সহযোগিতায় সংঘাতপূর্ণ সুদান থেকে জেদ্দায় সাময়িক আশ্রয় নিয়েছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে অন্যদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে গত ১৫ এপ্রিল থেকে সংঘাত চলছে। এ পর্যন্ত সংঘর্ষে চার শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে প্রায় ১৫০০ বাংলাদেশি বসবাস করে আসছিলেন। সংঘাত শুরু হলে তাদের মধ্যে প্রায় ৭০০ জন দেশে ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের বেশ কয়েকজনকে বাসে খার্তুম থেকে ৮৫০ কিলোমিটার দূরে পোর্ট সুদানে নিয়ে যায়। রোবরার পোর্ট সুদান থেকে সৌদি এয়ারফোর্সের বিশেষ ফ্লাইটে ১৩৬ জনকে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সুদান থেকে জেদ্দায় ফেরা বাংলাদেশিদের স্বাগত জানান সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

সুদানফেরত এক প্রবাসী বলেন, ‘সুদানের পরিস্থিতি এখন খুবই খারাপ। সেখানে প্রচণ্ড গোলাগুলি ও বোমাবর্ষণ চলছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ। খাবার, পানি, গ্যাস সংকট প্রচণ্ড। আমরা প্রায় ২২ দিন না খেয়ে ছিলাম।’

সুদান থেকে ফেরত আসা এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ওইখানে আমরা ২০ দিন ধরে খুবই কষ্টে ছিলাম। দূতাবাসের লোকজন আমাদের খার্তুম থেকে উদ্ধারের পর একটু স্বস্তি পেয়েছি। এখন দেশে পৌঁছলাম। তবে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, ব্যবসা ছিল ওখানে।’

সুদানে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের উদ্ধারের আবেদন জানিয়ে আরেক প্রবাসী বলেন, ‘ওখানকার অবস্থা খুবই খারাপ। ৬০০ মানুষ ক্যাম্পে আছে। তাদের দ্রুত আনার ব্যবস্থা করা দরকার।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সুদানে প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশির বসবাস। তাদের মধ্যে যারা দেশে ফেরার জন্য নিবন্ধন করেছেন, পর্যায়ক্রমে তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনা হবে।

শেয়ার করুন