১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৫:৫০:২৩ পূর্বাহ্ন
ইরানজুড়ে ৪৯৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থার দাবি
  • আপডেট করা হয়েছে : ১২-০১-২০২৬
ইরানজুড়ে ৪৯৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থার দাবি

সরকারি দমন–পীড়ন জোরদার হওয়ায় ইরানজুড়ে বিক্ষোভ চলমান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির দাবি, দেশজুড়ে ৪৯৫ জন বিক্ষোভকারী ও ৪৮ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজার ৬০০ জনকে আটক করা হয়েছে। 


তেহরানের কাছে একটি মর্গের ভিডিও ফুটেজে বিবিসি প্রায় ১৮০টি লাশের ব্যাগ গণনা করেছে।


রবিবার তেহরান থেকে বিবিসিকে দেওয়া এক সূত্র বলেন, ‘পরিস্থিতি ভয়াবহ। যুদ্ধক্ষেত্রের মতো অবস্থা—রাস্তায় রক্ত, গুলি ছোড়া হচ্ছে, ট্রাকে করে লাশ সরানো হচ্ছে।’

বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেন, ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত।


তিনি বিস্তারিত জানাননি, তবে বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএসকে এক কর্মকর্তা বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিকল্পগুলো নিয়ে তাকে অবহিত করা হয়েছে। 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়, সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে অনলাইন বিরোধী কার্যক্রম জোরদার, সাইবার হামলা ও নতুন নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে ইসরায়েলসহ অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক ও নৌ চলাচলের কেন্দ্রগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।


উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অবসানের দাবিতে রূপ নিয়েছে।


ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল ঘোষণা দিয়েছেন, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের ঈশ্বরের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে—যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। খামেনি বিক্ষোভকারীদের ধ্বংসাত্মক ভাঙচুরকারী আখ্যা দিয়েছেন।

রবিবার ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতীয় লড়াইয়ে শহীদদের স্মরণে তিন দিনের শোক ঘোষণা করে।


বিবিসিকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাধিক হাসপাতালে নিহত ও আহত বিক্ষোভকারীর ঢল নেমেছে। ইরানে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত।


বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট শাটডাউন জারি থাকায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু কিছু ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে—তেহরান প্রদেশের কাহরিজাকে ফরেনসিক কেন্দ্রে সারি সারি লাশের ব্যাগ, স্বজনদের কান্না ও আহাজারির দৃশ্য দেখা যায়। জীবিতদের পরিচয় সুরক্ষায় ভিডিও ঝাপসা করা হয়েছে।

বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে, মাশহাদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ভিডিও সাম্প্রতিক। কোথাও বাসে আগুন, গুলির শব্দ, কোথাও সেতু থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। তেহরানের গিশা, পুনাক ও হেরাভি এলাকায় শাসন অবসানের দাবিতে মিছিলের ভিডিওও যাচাই করা হয়েছে।


ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করলেও প্রমাণ দেননি। তবে বিবিসি পার্সিয়ান ও বিবিসি ভেরিফাই যাচাইকৃত ফুটেজে তেহরান, কেরমানশাহ ও বুশেহরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের দৃশ্য নিশ্চিত হয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ইন্টারনেট বন্ধ, অতীতের তুলনায় আরো কঠোর। গবেষক আলিরেজা মানাফি জানান, স্টারলিংক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযোগের চেষ্টা হতে পারে, তবে তা ট্র্যাক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।


শেয়ার করুন